শুরু হলো আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব

মঙ্গলবার শিশুদের কলকাকলিতে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল রাজধানীর শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণ। নীল রঙের টি শার্ট পরে ঘুরছে বিভিন্ন বয়সের শিশু-কিশোররা। কারণ আজ থেকেই শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব।

‘ফ্রেমে ফ্রেমে আগামী স্বপ্ন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিকাল চারটায় চিলড্রেনস্ ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘১০ম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব’টি শুরু হয়। এটি উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। উৎসবটি চলবে আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত। উদ্বোধনী পর্বে পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত, পায়রা ও বেলুন ওড়ানো হয়। এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। সভাপতিত্ব করেন উৎসব উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান মুস্তাফা মনোয়ার।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আল মুহিত বলেন, ‘এখানে শিশুরা এসে অনেক ছবি দেখবে, এভাবে তারা তাদের রুচিকে উন্নত করতে পারছে এটা অনেক বড় পাওয়া। শিশুদের মনের বিকাশ যেন হয় তেমন শিক্ষাই প্রয়োজনীয় শিক্ষা।’

সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘শিশুদের বাসায় সময় দিন, এতে তারা ভালো মানসিকতার মধ্য দিয়ে বড় হবে। তারা যা করতে চায় তাই করতে দিন। তাদের মতো করে তাদের বড় হতে দিন। তাদের গাছপালা আকাশ আপনাদের দেখানো রংয়ে হবে তেমনটাও ভাবা ঠিক নয়।’

এছাড়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন উৎসব উপদেষ্টা মোরশেদুল ইসলাম, চিলড্রেন ফিল্ম সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মুনিরা মোরশেদ মুন্নী, উৎসব পরিচালক মোহাম্মদ আবীর ফেরদৌস প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শেষের দিকে বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেশে শিশুদের নিয়ে কোনো কাজকে ছোট করে দেখা হয়, অবহেলা করা হয়। ছোটদের ছবি ভালোও হয় তবুও পুরস্কৃত করা হয় না। আমি এবার যে ছবি তৈরি করছি তা আমার আগের ছবি দীপু নাম্বার টু-কেও ছাড়িয়ে যাবে আশা করছি।’

মুনিরা মোরশেদ মুন্নি বলেন, ‘এরকম উৎসবের মাধ্যমে শিশুদেরকে লোভহীন জীবন যাপনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ভিন্ন ধর্ম ভিন্ন সংস্কৃতিকে সহ্য করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। শ্রদ্ধা করতে শিখতে হবে। তবেই এই উদ্যোগ সফল হবে।’

ঢাকায় মূল উৎসব কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তন। উদ্বোধনী দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ১১টা, দুপুর ২টা, বিকাল ৪টা ও সন্ধ্যা ৬টায় মোট চারটি করে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হবে। এবারের উৎসবে সারাদেশের মোট ১১টি ভেন্যুতে ৫৪ দেশের দুই শতাধিক শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। উৎসবের সব প্রদর্শনী অভিভাবকসহ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত। উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে একই সঙ্গে ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুরে। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামেও এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

কর্মশালা ও সেমিনার

২৫ জানুয়ারি, বুধবার জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। কর্মশালাটি পরিচালনা করবেন বিলি জে.ডি. পোর্টার। ২৬ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার থাকছে চলচ্চিত্র নির্মাণের ওপর একটি কর্মশালা। এটি পরিচালনা করবেন মেজবাহ রহমান সুমন। ২৭ জানুয়ারি, শুক্রবার চলচ্চিত্র নির্মাতা অমিতাভ রেজার পরিচালনায় থাকছে আরও একটি কর্মশালা।

প্রতিযোগিতা বিভাগে যাদের ছবি দেখানো হবে তাদের উৎসব কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে উৎসবে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়াও সুবিধাবঞ্চিত এবং শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী শিশুদেরও উৎসব প্রতিনিধি হিসেবে উৎসবে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বুধবার প্রদর্শিতব্য চলচ্চিত্রের তালিকা

বেলা ১১টায় শওকত ওসমান মিলনায়তনে আপস ইন টাইম (ফ্রান্স), আন্ডার কনস্ট্রাকশন (ফ্রান্স), অ্যাট আই লেভেল (জার্মানি), থাম্বস আপ (ভারত), রিফিউজি ক্যাম্প (ইরান), আই হ্যাভ জাস্ট হ্যাড আ ড্রিম (ফ্রান্স), যাক টাইম (ব্রাজিল), স্টার ট্যাক্সি (ভ্লোকিয়া) প্রদর্শিত হবে।

দুপুর ২টায় মার্বেলস (ভারত), কপার ওয়্যার (ইরান),¯প্রিং ইন অটাম (বেলারাস), মিডনাইট (চীন), ফলো মি (আমেরিকা), টুডে টুমরো (আলজেরিয়া), আ সলিউশন (ইরান), দ্যা সন (বুলগেরিয়া), হোম সুইম হোম (চীন) প্রদর্শিত হবে।

বিকাল ৪টায় অ্যাঞ্জেলাস নভাস (নেদারল্যান্ডস), বো বো (ভারত) প্রদর্শিত হবে।

সন্ধ্যা ৬টায় দ্যা কিড (আর্জেন্টিনা), টু ওয়ার্ডস (পোল্যান্ড), আলিয়াস ফ্রজেঁস ডি ঢাকা প্রদর্শিত হবে।

দুপুর ২টায় প্রদর্শিত হবে দ্যা স্যুটকেস (রাশিয়া), হাস্তি (ইরান), দ্যা বাইসাইকেল (ভারত)।

বিকাল ৪টায় টেডি (আমেরিকা), দ্যা ফরেস্ট পেপার (থাইল্যান্ড), আ গার্ল লাইক ইউ (ইতালি), ডিফারেন্ট (উজবেকিস্তান), আপির (ফ্রান্স), দ্যা ফিউনামবুলিস্ট (ফ্রান্স), ফাটা: বাইপাস (ভারত), ক্রিস্টোস অ্যান্ড ডিমিত্রা (গ্রীস), আল্পাকাস (ফিনল্যান্ড), আই অ্যাম নট মাউস (আমেরিকা), শর্টলি বিফোর ডিসাপিয়ারিং (ইতালি), জেরোনিমো (ফ্রান্স), হানি অ্যান্ড ওল্ড চিজ (মরক্কো), অ্যাজুরাইট (ফ্রান্স), আ টেস্ট অব রেইং (সাইবেরিয়া), হোয়াই ব্যানানা গার্লস (রাশিয়া)।

সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়াম, জাতীয় জাদুঘর

দুপুর ১:৩০টায় এ্যালান কুর্দি ফ্রম হ্যাভেন, বাড়ি ফেরা, পেশেন্স, লস্ট ইন লাইটস, মা, বাক্সবন্দী, আই এ্যাম দ্যা ডিটেকটিভ, খড়কুটো, এনমেসড প্রদর্শিত হবে।

বিকাল ৪টায় চেজ, দ্যা সাইলেন্ট এয়ার, ইউ টু লিভ, দ্যা অডিয়েন্স, এ এক মামা বাড়ির গল্প, দ্যা ইলিউশন, মাস্টার অব পাপেটস, হেল্প, দ্যা উইন্ডো, স্রষ্টা, আ রাইটার, স্মৃতি রক্ষক, দ্যা মিরেজ, একটা কিন্তু, হোয়েন ওয়াটার রাইজ প্রদর্শিত হবে।

গ্যোটে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ

বেলা ১১টায় দ্যা হ্যাপিয়েস্ট আওয়ারস অব আওয়ার লাইভস (জার্মানি), আ ফ্লাওয়ার ইজ মিসিং (মেক্সিকো), অ্যামরফোয়াস (ইরান), আর্থ ইজ দ্যা লোনলিয়েস্ট প্লানেট (লাটভিয়া), শিপস পাসিং ইন দ্যা নাইট (জার্মানি), কপার ওয়্যার (ইরান), ¯প্রিং ইন অটাম (বেলারাস), র‌্যাক টাইম (ব্রাজিল), লেসি (চেজ রিপাবলিক), থাম্বস আপ (ভারত), রিফিউজি ক্যাম্প (ইরান), টুডে টুমরো (আলজেরিয়া) প্রদর্শিত হবে।

দুপুর ২টায় ওয়াটার ব্যাক প্যাক পল (জার্মানি), স্কাই (নেদারল্যান্ডস), দ্যা লাইটহাউজ (তুর্কি), অ্যাবাউট আ মাদার (রাশিয়া), এগ (তুর্কি), ইমাজিনেরিয়াম (কলম্বিয়া), ইউ কান্ট হাইড ফ্রম দ্যা ট্রুথ (আমেরিকা), রেড লাইন (ইরান) প্রদর্শিত হবে।

বিকাল ৪টায় আন্ডার দ্যা ক্লক (গ্রিস), সান্টাস ওয়্যারহাউজ (আমেরিকা), অল অ্যাবাউট পিপল (জার্মানি) প্রদর্শিত হবে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি

বেলা ১১টায় ইন অ্যান্ড ইয়ানা: ফরবিডেন ফুড (রাশিয়া), ব্যাটল ড্রিম ক্রোনিকেল মার্টিনিকুই, দ্যা মর্নিং বয় (ভারত), দ্যা বিগ ক্লাওয়েড মনস্টার (ব্রাজিল) প্রদর্শিত হবে।

দুপুর ২টায় আদি সন (শ্রীলংকা), মুফত (পাকিস্তান), সিনেচিত্তা অন হুইলস (ইতালি), চিল্ড্রেন অব কনফ্লিক্ট (ভারত), হোয়াইট রোজ (কোরিয়া), ডোন্ট মেক মি লাফ (ব্রাজিল), মাই টয় ওয়ার্ল্ড (ভারত), নেসেসিটি হ্যাজ নো ল (মিশর), দ্যা কেইজ (ফিনল্যান্ড), প্লে গ্রাউন্ড (ফ্রান্স), পিকোলো কনসেনট্রো (জার্মানি), নেথ্রাম (ভারত) প্রদর্শিত হবে।

বিকাল ৪টায় হার্ট উইথ দ্যা সান (চীন), আনসাইটেড (ভারত), আউটল্যাংগিস (সাউথ আফ্রিকা) প্রদর্শিত হবে।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

দুপুর ১টায় দ্যা লায়ার (ভারত), দ্যা সিস্টেম হুইচ উই অ্যাকসেপ্টেড (ভারত), দ্যা কেইভ সিংগার (নেপাল), মানি বক্স (মিশর), পিপো (ফিলিপিনস), দ্যা সাইলেন্স (ইতালি) প্রদর্শিত হবে।

দুপুর ২টায় দ্যা অটো রিস্ক শো (ভারত), ড্রিমস (মিশর), নো (মিশর), পেন (ভারত), লাইট সাইট (ইরান), কেলেস্টিয়াল ক্যামেল (রাশিয়া), আউটল্যাংগিস (সাউথ আফ্রিকা), দ্যা সাইলেন্স (ইতালি), হাস্তি (ইরান)

বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক অনুদানে এ উৎসব আয়োজনে সহযোগিতা করছে এ টু আই ও ব্রিটিশ কাউন্সিল। এছাড়াও সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। ভেন্যু পার্টনার হিসেবে থাকছে আলিয়াস ফ্রঁসেজ, গ্যোয়েটে ইনস্টিটিউট ও ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রকাশিত হয়েছে ঢাকা টাইমস-এ।

© 2020 Children's Film Society Bangladesh

This website is designed & supported by Hootum Bangladesh Limited

Log in with your credentials

Forgot your details?