স্বপ্নপূরণের গল্প

“আনলাকি থার্টিন” টার্মটির সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। কিন্তু সিএফএস এর ভাগ্য এসব সংখ্যার ভূত-টুত মানে না বলে মনে হচ্ছে। চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশের জেনারেল সেক্রেটারি, মুনীরা মোরশেদ মুন্নি। ভালোবাসা থেকে আমরা তাকে খালা বলেই ডাকি। খালা’র দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, উৎসব পরিচালনার কাজ করবে কোন নারী। দীর্ঘ এক যুগ পার করার পর সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশ পেল একজন নারী উৎসব পরিচালক। ফারিহা যাহিন বিভা, পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, সম্মান ৩য় বর্ষে। পড়ালেখার পাশাপাশি পালন করছেন ১৩তম “আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশ ২০২০” পরিচালনার দায়িত্ব।

পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব এবার প্রথমবার পালন করলেও, সিএফএসের সাথে কাজ করছেন ২০১৫ সাল থেকে। এ বছর তার দায়িত্ব যেমন বেড়েছে, কাজ করতে গিয়ে প্রতিকূলতার সম্মুখীনও হতে হয়েছে বেশি। এ ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে তিনি বললেন, “আমি কাজ করতে গিয়ে এখন বুঝতে পারি, মানুষের ফোনকলের উত্তর দেয়াটা কত জরুরী। সব স্থানে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানো কতটা জরুরী, মানুষের সাথে মেশাটা কত জরুরী এবং প্রয়োজন পড়লে কঠোর হওয়াটাও কতটা জরুরী। মোট কথা আমি এই দায়িত্ব পেয়ে অনেক বেশি সচেতন একজন মানুষ হয়েছি।” ফারিহা যাহিন বিভা সিএফএসকে আরো প্রতিষ্ঠিত জায়গায় দেখতে চান, তিনি চান ফিল্ম সোসাইটিটি আরোও সক্রিয় হোক। শিশুদের নিয়ে, চলচ্চিত্র নিয়ে আরো কাজ করুক। তিনি মনে করেন, বর্তমানে শিশুরা একটি নির্দিষ্ট গন্ডিতে বন্দী। বাবা-মা’রা এখন সন্তানদের শারীরিক, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিকাশ নিয়ে চিন্তা করলেও, তাদের মনস্তাত্বিক বিকাশ ঠিকমত হচ্ছে কিনা, সে ব্যাপারে উদাসীন। সিএফএস এর মাধ্যমে শিশুরা একটি প্ল্যাটফর্ম পাচ্ছে, যেখানে কাজ করে তারা আত্মবিশ্বাসী হচ্ছে, তাদের চিন্তাভাবনা প্রসারিত হচ্ছে। উৎসব নিয়েও ভেবেছেন তিনি। প্রত্যেক বছর আমরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করি শিশুদের নিয়েই। তিনি চান, শিশুদের জন্য এখানে কাজ করা যেন আরও সহজ হয়। এছাড়াও তিনি চান, এই চলচ্চিত্র উৎসবকে যেন পৃথিবীর অন্যান্য চলচ্চিত্র উৎসবের কাছে উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করানো যায়। এই উৎসব থেকে উৎসাহিত হয়ে শিশুরা যেন আরোও চলচ্চিত্র বানায়।

যেহেতু পুরো উৎসবটির সব বিভাগেই শিশুরা কাজ করে, তাদের সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কিনা, সেই প্রশ্ন থাকতেই পারে। কিন্তু ফারিহা যাহিন বললেন ভিন্ন কথা। তার মতে, এখানে কাজ করা সব শিশু সহজ ও প্রাণবন্ত, তাদের নিজেদের মধ্যে কোনো প্রতিযোগিতা নেই বলে তাদের সাথে কাজ করা আনন্দদায়ক। তবে ভুল যে শিশু স্বেচ্ছাসেবকদের দ্বারা একদমই হচ্ছে না, তা নয়। ভুল হলেও সেগুলো শুধরে নেওয়ার চেষ্টাও তারা নিজেরাই করছে এবং এটিই সবচেয়ে চমৎকার দিক।

ফারিহা যাহিন সিএফএস এর ইতিহাসে প্রথম নারী উৎসব-পরিচালক। নারীর ক্ষমতায়নের কথা চিন্তা করলে, এটি আমাদের জন্য গর্ব এবং সাফল্যের আরোও একটি ধাপ। কিন্তু আমাদের উৎসব পরিচালকের মতে, নির্দিষ্ট সময় ও নিয়মের অধীনে কাজ করতে পারলে, পরিবার ও সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা গেলে, একজন নারী হয়েও বড় দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব কিছু নয়।

মুন্নি খালার একটি স্বপ্ন তো পূরণ হলো, আমরা একজন নারী উৎসব পরিচালক পেলাম। সেই সাথে আমাদের বর্তমান উৎসব পরিচালকের সিএফএস এবং উৎসব নিয়ে আশা-আকাঙ্ক্ষাও পূরণ হবে, এই প্রত্যাশায় শুরু করা যাক ১৩তম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশ ২০২০..

– নার্গিস হামিদ মনামী

© 2020 Children's Film Society Bangladesh

This website is designed & supported by Hootum Bangladesh Limited

Log in with your credentials

Forgot your details?