সিএফএসে আমি

সিএফএসের সাথে আমার সম্পর্কের শুরু সেই ২০০৮ সাল থেকে। না, সরাসরি সদস্য হিসেবে নয় দর্শক হিসেবে। ১ম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব এর বিজ্ঞাপন দেখে সিনেমা দেখতে চলে যায় “রুশ সংস্কৃতি কেন্দ্রে”। প্রথম থেকে নিয়মিত এ উৎসবের চলচ্চিত্রগুলো দেখতাম আমি। বাসার কাছে বলে রুশ সংস্কৃতি কেন্দ্রেই যাওয়া হত কেবল। উৎসবের বিস্তৃতিতে বিশাল তখন বুঝতে পারিনি। সিএফএস নামক সংঘঠনের নামও শুনিনি তখনও। প্রতিবার সিনেমা দেখতে গেলে দেখতাম স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছে আমার বয়সী অনেকেই। আমি ভাবলাম এদের মত এখানে কাজ করতে পারলে ভালই লাগবে। গলায় কার্ড ঝুলিয়ে টিকেট চেক করব আর সবাই হলে বসে পড়লে আমিও বিনে টিকেটে সব সিনেমা দেখতে পারব। ধীরে ধীরে এই উৎসবের সাথে সরাসরি যুক্ত হওয়ার আগ্রহ তীব্র হতে লাগল। চতুর্থ উৎসবের সময় এক স্বেচ্ছাসেবক আপুর কাছে জানতে পারলাম “সিএফএস” এর নাম। তারপর দিন স্কুলের দেয়াল টপকে ক্লাস ফাকি দিয়ে সকাল সকাল চলে গেলাম পাবলিক লাইব্রেরিতে উৎসবের প্রধান ভেন্যুতে। সেদিন প্রথমবার দেখা হয়েছিলো মুণ্ণী খালার সাথে। প্রথম দেখায় কেন যেন খালা আমাকে পছন্দ কড়ে ফেললেন। মুঠোফোন নম্বর দিয়ে বললেন আগামীবার আমাকে অবশ্যই স্বেচ্ছাসেবক করবেন। কথা রেখেছিলেন বলেই আজ আমি সিএফএসের সাথে নিজেকে যুক্ত করতে পেরেছি।

৫ম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ শুরু করি। প্রথমবারের সেই অনুভূতি ছিল সত্যিই অন্যরকম। সব কিছুতেই ছিল মুগ্ধতা, ভালোলাগা। চলচ্চিত্র নির্মাণের একটা গোপন ইচ্ছেও ছিল। পরের বারেই আমার নির্মিত চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছিল। ষষ্ঠ উৎসবে তাই সুযোগ পেলাম “চলচ্চিত্র নির্মাতা” হিসেবে। তাই বলে স্বেচ্ছাসেবকের কাজটা ছেড়ে দেই নি। “নির্মাতা-স্বেচ্ছাসেবক” দ্বৈত ভূমিকায় অংশ নিয়ে সেবারে ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়েছিল।

আর পরের বার “জুরিবোর্ডের” সদস্য হওয়াটা ছিল একই সাথে গৌরব, সম্মান সেই সাথে অনেক বড় দায়িত্বের।
দর্শক থেকে শুরু করে বিচারক। বিচিত্র সব ভূমিকায় সিএফএসের সাথে যুক্ত থেকেছি। সংঘঠন করা বলতে যা বোঝায় সেটা আগে কখন না করলেও সিএফএসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব পেয়ে শিখেছি অনেক কিছু।
সারা বছর অপেক্ষা করি উৎসবের এই সাতটা দিনের জন্য। আমরা সিএফেসিয়ানরা এই সাতদিনের নাম দিয়েছি “সোনালি সাতদিন”। ঈদ হয় একদিন কিন্তু আমাদের জন্য এই সাতদিনের আনন্দ ঈদের চেয়েও যেন বেশি। তাই উতসব যখন সাঙ্গ হয় তখন সবার চোখে অশ্রু ঝরে অঝোরে। তখন ভাবতেই কষ্ট হয় যে কাল থেকে আর সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে উৎসবে আসা হবে না, ভলান্টিয়ার কার্ড ঝুলিয়ে দাপট দেখানো হবে না, কিংবা দুপুর বেলা সবাই মিলে খাওয়াটাও আর হবে না।

সিএফএসকে আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের একটা অংশ হয়ে গিয়েছে । সিএফএস বলতেই একটা অন্যরকম আবেগ কাজ করে। সেটা এর সাথে সরাসরি যুক্ত না হলে অনুভব করা যাবে না।

সিএফএস এমন একটা প্রজন্ম গড়ে তুলেছে যারা আগামী দিনের স্বপ্ন দেখেই থেমে থাকে না সেই স্বপ্নকে নিয়ে বাঁচে সেই স্বপনের কথা সবাইকে জানায় সিনেমার ভাষায়।

দেখতে দেখতে আটটি বছর সাতটি সফল উৎসব শেষে এখন চলছে ৮ম উৎসবের প্রস্তুতি। উৎসবের বিস্তৃতি বেড়ে এবার থেকে শুরু আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ। এসএসসি পরীক্ষার কারনে এবার কাজ করতে পারব না বলে খুব খারাপ লাগছে। তবে যেখানেই থাকি মন পরে থাকবে সিএফেসেই…………………।।

© 2019 Children's Film Society Bangladesh

This website is designed & supported by Hootum Bangladesh Limited

Log in with your credentials

Forgot your details?