আমার গর্ব

Ashraful Islam Tushar

Ashraful Islam Tusharচিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ। এই নামটির সাথে প্রথম পরিচয় বন্ধু জিসানের মাধ্যমে। তার কিছুদিন পরেই শুরু হয় এই সংঘঠনটি দ্বারা পরিচালিত ফেস্টিভ্যাল।

৪র্থ আন্তর্জাতিক শিশু চলচিত্র উৎসব চলছে। এমন সময় ঘুরতে যাই উৎসবের মূল ভেন্যু পাবলিক লাইব্রেরীতে। গিয়ে দেখি সব ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সেখানে কতরকম ইন্টারেস্টিং এবং চ্যালেঞ্জিং কাজ করছে। কেউ কেউ বয়সে আমার চেয় একটু বড়, কেউবা আমার সমবয়সী, কেউবা আবার অনেক ছোট। চারপাশটা সুসজ্জিত। আমার খুব ভাল লেগে যায়। ইচ্ছে জাগে সিএফএসের হয়ে কাজ করার। তারপর যুক্ত হই সিএফএসের সাথে।

উৎসব চলাকালীণ চারিদিকে একটা বৈচিত্র্যময় পরিবেশ বিরাজ করে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিশু প্রতিনিধিরা ছবি বানিয়ে এখানে আসে। তারা দিন-ভর সেমিনার, কর্মশালা ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ করে। বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের সান্নিধ্যে গিয়ে শিখতে পারে অনেক কিছু। স্কুল-কলেজ থেকে বাস ভরতি ছেলেমেয়ে আসে মুভি দেখতে। ভেন্যুগুলো মুখরিত হয়ে উঠে ছোটবড় মানুষের কোলাহলে। একদল মুভি দেখে বের হয়। আরেকদল মুভি দেখতে ঢুঁকে। মুভি শেষে কেউ কেউ ভেন্যুতে ঘুরাঘুরি করে, ছবি তুলে, কেউ কেউ ছুটে পছন্দের মানুষের অটোগ্রাফ শিকারে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও মিডিয়া থেকে লোকজন আসে। আসে বিদেশী প্রতিনিধি দল। আর এই সব কিছুরই আয়োজন এবং পরিচালনা করি আমরা যারা ভলান্টিয়ার এবং অর্গানাইজার আছি তারা। এমনকি, প্রতিযগিতায় কোন কোন মুভি পুরস্কার পাবে তাও নির্ধারিত হয় একটি আঠার এর কম বয়সী কিন্তু অভিজ্ঞ বিচারক দলের বিচারে। ফেস্টিভ্যাল ছাড়াও এর আগে ও পরে সারাবছরই সিএফএসের সাথে সংযুক্ত মানুষদের নিয়ে যে মিটিং বা গেট টুগেদার হয় সেগুলোও হয় খুব উপভোগ্য। এখানে আমরা সবাই অনেক মজা করি। মজা করতে করতে কাজ শিখি। প্রতিবছর এইখানে প্রানের মেলা বসে। সবকিছুই এখানে উপভোগ্য এবং শিক্ষণীয়।

ব্যাক্তিগতভাবে আমি নিজে এখান থেকে যা শিখেছি বা শিখছি, যা পেয়েছি বা পাচ্ছি তা আর কোন অর্গানাইজেশন থেকে পেতাম কিনা তা আমি জানিনা। কিছুটা জানার চেষ্টাও করিনি বলা যায়। কারণ এইখানে আমি পাইনি এমন খুব কম জিনিসই বোধয় আছে যা আমি অন্য অর্গানাইজেশনে যুক্ত থাকলে পেতাম। কিভাবে টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে একটা বিশাল কাজকে সহজেই সফল করা যায় সেটা আমি এখানেই শিখেছি। শিখেছি কিভাবে কাজকে ভালবাসতে হয়। এখান থেকে হয়েছে নেতৃত্ব দানের অভিজ্ঞতা। পেয়েছি অনেক জ্ঞ্যানী, গুনী ও বিখ্যাত মানুষের সান্নিধ্য। পেয়েছি কিছু ভাল বন্ধু। শিখেছি কিভাবে অনেকে মিলে আনন্দ করার সাথে সাথে কাজ করা যায়। শিখেছি ভালো আর খারাপের মধ্যে ব্যাবধান গড়তে। প্রতিনিয়তই এখান থেকে আমি, আমরা শিখছি। যেই আমার সিনেমা দেখাতেই খুব একটা ইন্টারেস্ট ছিলনা সেই আমি এইখানে যুক্ত হওয়ার পর সিনেমা বানানোর চিন্তাও করি। নিজের ভাবতেই কেমন জানি একটা অনুভূতি হয়। কাজের ফাঁকে ফাঁকে দেশ বিদেশের অনেক মুভি দেখেও শিখছি এবং জানছি অনেক কিছু। কি নেই এখানে?

প্রতিবছর ফেস্টিভ্যাল শুরু হয়ে শেষ হয়। কিন্তু পরবর্তী ফেস্টিভ্যালের জন্য অপেক্ষা কখনও শেষ হয়না। বছরের ১ম মাসের শেষ পুর্নাঙ্গ সপ্তাহে সাধারণত ফেস্টিভ্যালটি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। আমরা যারা সিএফএসের হয়ে কাজ করি, বছরের ঐ সাতটি দিনে আমাদের থাকে কতকিছু। হাসি, কান্না, দুষ্টামি, আদর, একটু আকটু খুন্সুটি, ভয়সহ আরোও কত আবেগ। থাকে ব্যাস্ততা, ক্লান্তি, আরও কতকিছুই। চারপাশ ঘিরে থাকে পছন্দের কতো মানুষ। মায়ের আদর আর শাসন নিয়েতো মুন্নী খালা থাকেনই। থাকে কিছু ছোটখাট দুর্ঘটনাও। তারপরও প্রতি বছরই মনে হয় এই সাতটি দিনই আজ পর্যন্ত জীবনের সেরা সাতটি দিন।

সিএফএসের সাথে যুক্ত থাকতে পেরে আমি গর্বিত। নিঃসন্দেহে সিএফএসএর সাথে যুক্ত হতে পারাটা ছিল আমার জীবনের অনেক বড় একটা পাওয়া। আমি জানি এবং বিশ্বাস করি সিএফএস আমাদের জীবনে ভাল কিছু করাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

© 2019 Children's Film Society Bangladesh

This website is designed & supported by Hootum Bangladesh Limited

Log in with your credentials

Forgot your details?